ঢাকা, সোমবার ২৪, আগস্ট ২০২৬ ৪:১৩:২২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য ১১৭ বছরে পা দিলেন বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় আটক ২ বঙ্গভবনে উঠলেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি রাজধানীতে ভ্যাপসা গরম থাকবে আরও ৪-৫ দিন রংপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় আটক ২ 

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১২ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০২৬ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর ৫টা পর্যন্ত ওই এলাকার দুই যুবককে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায় বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে তারা ইয়াবা সেবন করে বলেও আলামত পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, চারজনের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়।

সূত্রের দাবি, আটকদের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশেই দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, স্থানীয় যুবকদের একটি দল এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যেই ওই বাড়িতে ঢুকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এদিকে পুলিশ সন্দেহভাজনদের আটকের বিষয়টি স্বীকার না করলেও দুপুর ১২টার দিকে মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন— গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দোতলা বাড়িটির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়িতে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলে প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে এবং আসবাবপত্রের টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র‍্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অনেকগুলো সংস্থা কাজ করছে। কেউ আটক করলেও করতে পারে। ’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। তবে বাড়িঘর যেভাবে তছনছ করা হয়েছে, তাতে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব বলে আশা করছি।’